Breaking News
Home / Uncategorized / সাজ্জাদুল হাসান কে ডেইলি আমাদের বাণী.কম পরিবারের পক্ষে সৈয়দ তপনের অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা বাংলাদেশ প্রতিদিনে করোনা প্রভাব মোকাবিলা ও মৎস্য সেক্টরের সম্ভাবনাময় নিয়ে লেখায়

সাজ্জাদুল হাসান কে ডেইলি আমাদের বাণী.কম পরিবারের পক্ষে সৈয়দ তপনের অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা বাংলাদেশ প্রতিদিনে করোনা প্রভাব মোকাবিলা ও মৎস্য সেক্টরের সম্ভাবনাময় নিয়ে লেখায়

সাজ্জাদুল হাসান কে ডেইলি আমাদের বাণী.কম পরিবারের পক্ষে সৈয়দ তপনের অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা বাংলাদেশ প্রতিদিনে করোনা প্রভাব মোকাবিলা ও মৎস্য সেক্টরের সম্ভাবনাময় নিয়ে লেখায়

করোনা পরিস্থিতিকে দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের পর সংঘটিত সবচেয়ে বড় বৈশ্বিক ও মানবিক বিপর্যয় হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে। বিশ্বযুদ্ধের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক যুক্ত দেশের সংখ্যা ছিল সীমিত কিন্তু করোনা ইতিমধ্যেই আক্রান্ত করেছে বিশ্বের প্রায় সব কয়টি দেশ। বাংলাদেশকেও আজ করোনাভাইরাস মোকাবিলা করতে হচ্ছে। এমন বিপর্যয় প্রতিটা মানুষের কাছে অকল্পনীয়।

মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে।
এমন পরিস্থিতিতে মনোবল চাঙ্গা রেখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া খুবই জরুরি। বাংলাদেশ ক্ষুধা এবং দারিদ্র্য জয়ের লড়াইয়ে নিয়োজিত দক্ষিণ এশিয়ার একটি ঘনবসতিপূর্ণ কৃষিপ্রধান দেশ। এ দেশে প্রতি বর্গকিলোমিটারে প্রায় ১১৪৬ জন মানুষ বাস করে। এ দেশের অর্থনীতির বুনিয়াদ কৃষি এবং শ্রমশক্তির ৪০.৬ ভাগ কৃষি খাতে নিয়োজিত। সাধারণভাবে বলা হয়ে থাকে বাংলাদেশের অর্থনীতি এবং জীবন-জীবিকা চারটি খুঁটির ওপর ভর করে দাঁড়িয়ে আছে। এগুলো হলো-কৃষি, রপ্তানিমুখী পোশাকশিল্প, বিদেশে কর্মরত শ্রমিক এবং দেশের অভ্যন্তরে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ।

এটা স্বীকার করতে হবে করোনা পরিস্থিতির বৈশ্বিক বিপর্যয়ে রপ্তানিমুখী পোশাক শিল্প এবং বিদেশে কর্মরত শ্রমিকদের রেমিট্যান্স পাঠানোর ক্ষেত্রে আমরা একটা বড় ধাক্কা খেয়েছি যে ক্ষতি আমাদের পুষিয়ে আনতেই হবে। কৃষি সেক্টর এক্ষেত্রে একটা অনন্য ভূমিকা পালন করতে পারে। এ দেশের কৃষি ব্যবস্থার এক ধরনের চিরাচরিত নিজস্বতা থাকলেও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ছোঁয়ায় এ ব্যবস্থা এখন এক আশাজাগানিয়া সমৃদ্ধির পর্যায় উঠে এসেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের দূরদর্শিতায় বাংলাদেশ আজ ধান উৎপাদনে ইন্দোনেশিয়াকে পেছনে ফেলে বিশ্বের তৃতীয় স্থান অধিকার করে আছে। শুধু ধান উৎপাদনে নয়, সবজি উৎপাদনে তৃতীয়, চা উৎপাদনে চতুর্থ, আম উৎপাদনের সপ্তম, আলু উৎপাদনে অষ্টম এবং অন্যান্য ফসল উৎপাদনেও অনেক দূর এগিয়ে।
এই করোনা সংকটেও বোরো ধান সংগ্রহের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ বাস্তবায়নে কৃষিমন্ত্রীর নেতৃত্বে কৃষি মন্ত্রণালয় অভাবনীয় সাফল্য দেখিয়েছে। আজকে যদি বোরো ধান সংগ্রহের ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জিত না হতো তাহলে হয়তোবা ঘরে ঘরে হাহাকার লেগে যেত। যাক আজ আমি কৃষির একটি অন্যতম সেক্টর মৎস্য সম্পদের বিষয়গুলো নিয়ে আমার ভাবনার অবতারণা করতে চাই।

মাছে-ভাতে বাঙালি প্রবাদটির সঙ্গে আমরা আদিকাল থেকেই পরিচিত। বাঙালি জীবনের পরতে পরতে জড়িয়ে আছে মাছ আর মাছ

মাছ আমাদের বাঙালির জন্য সুস্বাস্থ্যের ভান্ডার ও প্রজনন শক্তির প্রতীক।
আমি সংক্ষেপে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এই ১০ বছরের শাসনকালে মৎস্য সেক্টরে যে অভাবনীয় সাফল্য এসেছে তা তুলে ধরার চেষ্টা করব। অতঃপর করোনায় মৎস্য সেক্টরে কী প্রভাব পড়েছে তা বিশ্লেষণের ইচ্ছা রাখি। সবশেষে এই করোনা বিপর্যয়কে কাটিয়ে মৎস্য সেক্টরকে কীভাবে আরও বেগবান করা যায় সে বিষয়ে আলোকপাত করতে চাই। আমাদের মনে রাখতে হবে করোনা-পরবর্তী বাংলাদেশে যে অর্থনৈতিক মন্দার আশঙ্কা করা হচ্ছে সে ক্ষেত্রে সার্বিকভাবে কৃষি সেক্টরেই অনন্য অবদান রাখবে বলে ধারণা করা যায়।

১. বিগত ১০ বছরে মৎস্য সেক্টরের অভাবনীয় সাফল্য : দেশের ক্রমবর্ধমান জনগোষ্ঠীর পুষ্টি চাহিদা পূরণ, কর্মসংস্থান, দারিদ্র্য বিমোচন ও রপ্তানি আয়ে মৎস্য খাতের অবদান আজ সর্বজনস্বীকৃত। প্রাণিজ আমিষের ৬০% আসে মাছ থেকে। তা ছাড়া দেশের ১৪ লাখ নারীসহ প্রায় দুই কোটি মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে মৎস্য খাতের ওপর নির্ভর করছে। বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট মাছের উৎপাদন বৃদ্ধিতে প্রযুক্তি উদ্ভাবনে কাজ করে যাচ্ছে। ইনস্টিটিউট থেকে ইতিমধ্যে মৎস্য চাষ ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ক ৬২টি লাগসই প্রযুক্তি উদ্ভাবন করা হয়েছে এবং উদ্ভাবিত প্রযুক্তিসমূহ মৎস্য অধিদফতর এবং বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে মাঠপর্যায়ে সম্প্রসারণের ফলে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে দেশে মাছের উৎপাদন দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪৩ লাখ মেট্রিক টন। ২০০৮-০৯ সালে মোট উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ২৭.০১ লাখ মেট্রিক টন। উল্লেখ্য, ১৯৮৩-৮৪ সালে দেশে মাছের মোট উৎপাদন ছিল মাত্র ৭.৫৪ লাখ মেট্রিক টন। তাই ৩৫ বছরের ব্যবধানে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে সাড়ে পাঁচ গুণেরও বেশি। উৎপাদনের এই ক্রমধারা অব্যাহত থাকলে আশা করা যায়, আগামী ২০২০-২১ অর্থবছরে দেশের মৎস্য উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ৪৫.৫২ লাখ মেট্রিক টন অর্জিত হবে। খাদ্য এবং কৃষি সংস্থার এক তথ্য অনুযায়ী ইলিশ উৎপাদনে বাংলাদেশ এখন বিশ্বে প্রথম যার পরিমাণ ৫.১৭ লাখ মেট্রিক টন। বিগত ১০ বছরে এর উৎপাদন বেড়েছে ৭৮ শতাংশ যা সরকারের এক অন্যতম সাফল্য। তেলাপিয়া উৎপাদনে বিশ্বে চতুর্থ প্রায় চার লাখ মেট্রিক টন। অভ্যন্তরীণ মুক্ত জলাশয়ে মাছ উৎপাদনে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান তৃতীয়। মিঠা পানির মাছ উৎপাদনে চতুর্থ এবং বদ্ধ জলাশয়ে মাছ উৎপাদনে পঞ্চম এটা জাতির জন্য গর্ব এবং অহংকারের বিষয়। দেশ মাছে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ায় গ্রামের সাধারণ মানুষ স্বল্পমূল্যে মাছও পাচ্ছে, পুষ্টিও পাচ্ছে। মিঠাপানির দেশীয় বিপন্ন প্রজাতির মাছের জিনপুল সংরক্ষণ এবং চাষাবাদ কৌশল উদ্ভাবনে ইতিমধ্যে যথেষ্ট অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। আইইউসিএন-এর তথ্য মতে, মিঠাপানির ২৬০ প্রজাতির মাছের মধ্যে ৬৪টি প্রজাতির মাছ বর্তমানে বিলুপ্ত। বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট ইতিমধ্যে বিলুপ্তপ্রায় ২২ প্রজাতির মাছের প্রজনন এবং চাষাবাদ কৌশল উদ্ভাবন করতে সক্ষম হয়েছে। এর মধ্যে পাবদা, গুলশা, টেংরা, শিং, মাগুর অন্যতম। ফলে বিলুপ্তপ্রায় মাছের প্রাপ্যতা সাম্প্রতিককালে বাজারে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ক্রয়মূল্যও সাধারণ ভোক্তাদের নাগালের মধ্যে আছে। আমাদের মাছের উৎপাদন এর শতকরা ১৬ ভাগ অর্থাৎ ৬.৪ লাখ মেট্রিক টন সামুদ্রিক মাছের অবদান। তবে এ কথা ঠিক সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদের সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাবে আমরা কাক্সিক্ষত উৎপাদন পাচ্ছি না। প্রচলিত মৎস্

About Mizanur Rahman

Check Also

ফুটবল কিংবদন্তি ম্যারাডোনার মৃত্যুতে বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদ এমপির শোক

আরিফ রববানী,(ময়মনসিংহ) আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি দিয়াগো ম্যারাডোনার মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন জাতীয় সংসদের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!